বিশেষ সংবাদ:

অশ্লীলতা রোধে ময়মনসিংহে ‘নির্মল যাত্রা উৎসব’

Logoআপডেট: মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০১৫

বিশেষ প্রতিবেদক
যাত্রাশিল্প আমাদের দেশজ সংস্কৃতির অন্যতম উৎসক্ষেত্র। একসময়ের গ্রামবাংলার মানুষের বিনোদনের প্রধান অবলম্বনই ছিল যাত্রা।

 

শীত মৌসুমের শুরুতেই এ শিল্পকে ঘিরে দেশব্যপী আনন্দের ধুম পড়তো। বৃদ্ধ-যুবক, শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের নারী-পুরুষ যাত্রামঞ্চের অভিনেতা-অভিনেত্রীর সংলাপে ঋদ্ধ হতো।

 

রাতের নীরবতা ভাঙ্গতো উপছে পড়া দর্শকের তৃপ্ত করতালিতে। কালের আবর্তে ঐতিহ্যবাহী সেই যাত্রাশিল্প আজ শুধুই স্মৃতি! বাঙালির শেকড়ের এই শিল্পটি নানা কারণে আজ অবহেলিত হয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। এক সময়কার মাঠ-ঘাট কাঁপিয়ে সর্বস্তরের মানুষের হৃদয় জয় করা এ শিল্পমাধ্যম এখন অশ্লীলতার অপঘাতে আপন অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।

 

এমতাবস্থায় জননন্দিত এ শিল্পের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনতে উদ্যোমী হয়ে উঠেছে সংশ্লিষ্টরা। তারই আলোকে বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের গৃহীত কর্মপরিকল্পনায় একাত্ম হয়েছে দেশব্যপী যাত্রার শিল্পচারীরা। সেই অনবদ্য মানষে ‘শুদ্ধাচারের সপক্ষে নির্মল যাত্রা, শীলিত সমাজ গড়ে আনে শুভযাত্রা’ শ্লোগাণে বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদ ময়মনসিংহ জেলা শাখার আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে ১০ দিনব্যাপি ‘নির্মল যাত্রাউৎসব’। ময়মনসিংহ সার্কেট হাউজ সংলগ্ন জিমনেশিয়াম অডিটরিয়ামে আজ ০৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে জমকালো এ যাত্রাসর। অশ্লীলতার অভিশাপ থেকে ঐতিহ্যবহ যাত্রাশিল্পকে মুক্তি দান এবং দুঃস্থ যাত্রাশিল্পীদের সাহায্যার্থে বর্ণাঢ্য এ যাত্রায়োজন বলে জানা গেছে।

 

আজ ০৫ নভেম্বর বিকেলে আসরের উদ্বোধন করবেন সমাজকল্যাণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন, এমপি। এতে মুখ্য আলোচক হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি বরেণ্য যাত্রানট মিলন কান্তি দে। বিশেষ অতিথি থাকবেন মজিবুর রহমান খান মিল্কী, শাহাদাত হোসেন খান হীলু, সোহেল হায়দার জসিম এবং এম এইচ ইউসুফ। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রদর্শিত হবে নন্দিত যাত্রাপালা ‘নিচু তলার মানুষ’। রঞ্জন দেবনাথ রচিত জনপ্রিয় এই পালার নির্দেশনা দিয়েছেন যাত্রাজন শাহ আলম। একই ধারাবাহিকতায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে একটি করে পালা-প্রদর্শনী। উৎসবের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত এ পালাগুলো হলো জীবন নদীর তীরে, মেঘে ঢাকা তারা, বেদকন্যা, জেল থেকে বলছি, প্রেমের সমাধি তীরে, রূপবান, গলি থেকে রাজপথ, একটি গোলাপের মৃত্যু, নীচু তলার মানুষ এবং নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা।

 

জনপ্রিয় এসব যাত্রাপালায় অভিনয় করবেন দেশের সনামধন্য যাত্রানটেরা। এমনটাই জানিয়েছেন উৎসব উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আমীর আহাম্মদ চৌধুরী রতন। তিনি বলেন, বাঙালির হাজার বছরের গৌরবোজ্জ্বল সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্পকে পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ্যধারায় প্রবাহিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই যাত্রার নামে অশ্লীলতা বন্ধ হয়ে দেশের শেকড়ের এই শিল্পমাধ্যমটি যেন তার গৌরবময় অতীত ফিরে পায় এবং সর্বস্তরে যথার্থ মর্যাদা পায়।

 

অনুষ্ঠিতব্য বর্ণাঢ্য এ উৎসব একটানা চলবে ১৫ নভেম্বর-২০১৫ পর্যন্ত। প্রতিদিন সন্ধ্যায় পালা পরিবেশনের পূর্বে রাখা হয়েছে একটি বিশেষ আলোচনা পর্ব। উল্লেখ্য, সংস্কৃতিপ্রেমীদের ব্যপক প্রত্যাশিত এ আসরকে ঘিরে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বরেণ্য সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিজনদের লেখায় বর্ধিত কলেবরে একটি স্মরণিকা প্রকাশিত হবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।