বিশেষ সংবাদ:

নাটকপাড়ায় ‘জাতীয় জাদু সম্মেলন-২০১৫’

Logoআপডেট: সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০১৫

বিশেষ  প্রতিবেদক
জাদু এমন একটি শিল্পমাধ্যম যা সম্পর্কে সব-সময়ই যে কারো জানার আগ্রহ অসীম। জাদু নিয়ে কৌতুহল কার নেই?

 

জাদুর ছলে জগৎ সংসারের সকল অন্যায় অনিয়ম বিনাস করার বাসনাও আজকাল অনেকের মাথায় সিঁথি কাটে।

 

এটি এমন এক আশ্চর্য শিল্প যা- চোখের সামনেই মুহূর্তের মধ্যে জীবিত একটা মানুষকে শূন্যে ভাসানো যায়, হাসানো যায়, আরও কতো কি। জাদুমন্ত্রে প্রত্যক্ষ জনস্রোতে জড়কে জীব আর জীবকে জড় কিংবা কোন বস্তুকে শূন্যে মেলানো আবার তরঙ্গ থেকে হাতে আনা যেন কোন ব্যপারইনা। এসব বিস্ময়কর কর্মকান্ড শুধুমাত্র জাদু মন্ত্রেই সম্ভব, বাস্তবে নয়।

 

জাদুখেলা মানুষকে আনন্দ দেওয়ার অন্যতম শিল্পমাধ্যম। এটি একটি গবেষণাধর্মী বিজ্ঞানও বটে। এই শিল্পে উপভোগকারীরা ব্যপকভাবে বিনোদিত হয়। তাই শিল্পটি নিয়ে গণমানুষের মধ্যে আগ্রহ-উৎসাহের কমতি নেই। জাদুশিল্প প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধির এবং কৌশলের খেলা। এবার সেই মোহময় জাদুতে ঋদ্ধ হয়েছে রাজধানীর সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শক। সারাদেশ থেকে আসা বিভিন্ন পর্যায়ের যাদুশিল্পীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে ২৭ অক্টোবরের নাটকপাড়া।

 

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এদিন অনুষ্ঠিত হয় ‘জাতীয় জাদু সম্মেলন-২০১৫’। বর্ণাঢ্য এ মিলনায়োজনে ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ছুটে আসা জাদুকরদের উস্থিতিতে নাট্যশালা রূপনেয় জাদুময় মিলনমেলায়। বাংলাদেশ জাদুকর পরিষদ(বাজাপ) আয়োজিত এবারের জাতীয় যাদু সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিলো শিল্পীদের উৎসাহ, উদ্দীপনা ও প্রেরণা সঞ্চারের মধ্য দিয়ে আগামী দিনের সুষ্ঠুধারার জাদুশিল্পী তৈরি। সম্মেলনকে ঘিরে যেন মূল হলের লবিও মাতে প্রাণোচ্ছল নবসাজে। বিকেল ২টা-৩টা পর্যন্ত চলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যাদুশিল্পীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া। বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিবেশিত হয় ফ্রি-গালা পর্যায়ের মূল্যায়নধর্মী জাদু প্রদর্শনী।

 

যেখান থেকে মনোনীত জাদুশিল্পীদের দিয়ে পরিবেশিত হয় আসরের মূল পরিবেশনা। আয়োজনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা উলফাৎ কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেস্ট ওয়েস্টার্ণ প্লাস মেপলি লেফ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর মো.শওকত হোসেন (অব.)। বাজাপ’র সভাপতি ছফিরউল্লাহ শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথিদের পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন- উলফাৎ কবীর, জর্জ ডি’ ক্রুজ, এন আই কাঞ্চন, স্থপতি মইনুল খান, সাধারণ সম্পাদক এস এইচ সাইমন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাদুর প্রতি সব বয়সের মানুষেরই প্রচুর কৌতূহল রয়েছে। তাই যারা সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল এবং শেখার প্রতি রয়েছে তীব্র আকাঙ্ক্ষা, কেবল তাদেরই এখানে আসা উচিত।

 

অনেক সময় দেখা যায়, দু-চারটি বিষয়ে জাদু শিখে প্রদর্শনীর জন্য মঞ্চে উঠে গেলাম, বাহাবা পেলাম এটি কিন্তু ঠিক নয়। তারা বলেন, প্রায়সয় দেখা যায়- বিভিন্ন মেলা বা বিজ্ঞাপন দিয়ে ৩- ৫’শ টাকা দিয়ে পাঁচ-দশটি জাদু শেখানো হয়। এসব প্রতারণা থেকে দূরে থাকতে হবে। জাদু শিখতে হলে অবশ্যই কিছু ভালো জাদুকরের জাদু প্রদর্শনী দেখতে হবে। সেটা যদি সম্ভব না হয়, তবে ভালো কোনো জাদুকরের সহশিল্পী হিসেবে কিছুদিন কাজ করেও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা যেতে পারে। এজন্য প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে এবং প্রচুর জাদু প্রদর্শনী দেখতে হবে।

 

ভালোভাবে চর্চা করে সমসাময়িক বিষয়ের ওপর উপস্থাপনা করার কৌশল নিয়ে কাজ করতে হবে। কেননা, উপস্থাপনাটাই যেহেতু জাদু, তাই ভালোভাবে উপস্থাপন পদ্ধতিটাও রপ্ত করে নিতে হবে। জাদুশিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য চারজন গুণী জাদুব্যক্তিত্বকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্ত বরেণ্যরা হলেন জাদুশিল্পজন উলফাৎ কবীর, জর্জ ডি’ ক্রুজ, এন আই কাঞ্চন এবং স্থপতি মইনুল খান। সম্মাননা প্রদান শেষে বৈচিত্রময় জাদু পরিবেশনের মধ্য দিয়ে  দর্শকদের মাত করে অংশগ্রহনকারী জাদুনটেরা।