বিশেষ সংবাদ:

‘বিদ্রোহী বুড়িগঙ্গা’র উদ্বোধনী প্রদর্শনী মঙ্গলবার

Logoআপডেট: শনিবার, ৩০ জুলাই, ২০১৬

এবি প্রতিবেদক
বাঙালি সংস্কৃতির শেকড়ের এক অনবদ্য শিল্পমাধ্যম যাত্রা। একটা সময় বাংলার পাড়া-মহল্লায় আয়োজন করা হতো গ্রামবাংলার জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা।

 

সমাদৃত পালাগুলো দেখতে দূর-দূরন্ত থেকে ছুটে আসতো নানা বয়স ও পেশার মানুষ। অথচ, একশ্রেণীর কিছু অসাধু মানুষের কারণে অশ্লীল নৃত্য আর নানা দুর্নামে কবলে পড়ে বাঙালির প্রাণের এই শিল্পটি আজ বিলুপ্তির পথে। সরকারি দায়সারা কিছু উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের ব্যানারে যাত্রাপালার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বারবার চেষ্টা হলেও কোন কূল পায়নি জনপ্রিয় এই শিল্পটি। তবুও থেমে নেই যাত্রাশিল্পে নিবেদিত মানুষগুলো।

 

যাত্রাই যাদের নেশা-পেশা এবং সকল ভাবনার উৎস। যাত্রাশিল্পের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব যাত্রানট মিলন কান্তি দে ও লেখক-গবেষক আমিনুর রহমান সুলতান নির্মল যাত্রা’র অগ্রযাত্রায় এবার নতুন প্রয়াস রেখেছেন। সম্প্রতি নির্মিত হয়েছে আমিনুর রহমান সুলতান রচিত ও মিলন কান্তি দে নির্দেশিত নতুন যাত্রাপালা ‘বিদ্রোহী বুড়গিঙ্গা’। কাল ২ আগস্ট ২০১৬ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিক্ষণ থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হবে পালাটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী।

 

গবেষণা ও সমাজ সচেতনতামূলক যাত্রাদল দেশ অপেরা প্রযোজিত এ পালামঞ্চায়নে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী। বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সাহিত্যিক হায়দার আকবর খান রনো’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল আক্তারুজ্জামান।
নতুন এ পালায় দেখা যাবে বুড়িগঙ্গার তরঙ্গে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক কিছু ঘটনার ইতিবৃত্ত।

 

বিশেষ করে পলাশীর বিয়োগাত্মক পরিণতির পর ইংরেজদেও বিরুদ্ধে সন্নাসী, ফকির ও মসলিন-তাঁত সম্প্রদায়ের বিক্ষেভ ও বিদ্রোহ একাধিক চরিত্রাঙ্কনে প্রতীকী ব্যঞ্জনায় এ পালায় তুলে ধরা হয়েছে। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন এম আলীম, মোঃ রফিক, মঞ্জুরুল আলম লাবলু, এম সিরাজ, শাহ্ মোহাম্মদ আলী, অলিউল্লাহ অলি, সুদর্শন চক্রবর্তী, রফিকুল ইসলাম, আবুুল হাসেম, এম হাসেম, এম আলম, সংকর সরকার, রহিম, মোজাম্মেল হক, ইদ্রিস, আলমার্স, লুৎফুন নাহার, রিক্তা সুলতানা, মনিমালা, আরিশা জামান, আলতাফ হোসেন এবং মিলন কান্তি দে। শংকর সরকারের সংগীত পরিচালনায় পায় বাদ্যযন্ত্রে থাকছেন গোকুল ঘোষ, পার্থ ভজন, গুরুদাস ও খালেক এবং রূপসজ্জায় থাকছেন নয়ন শেখ।