বিশেষ সংবাদ:

বাবা ছিলেন একজন উদার প্রকৃতির সৎ মানুষ : বাবা দিবসে অরুনা বিশ্বাস

Logoআপডেট: শনিবার, ১৪ জুন, ২০১৪

রিয়াদ হোসেন
আমার বাবা অমলেন্দু বিশ্বাস ছিলেন একজন বড় মাপের শিল্পী। গুণী ব্যাক্তিরা এ কথা প্রায়ই বলেন। বাবা একুশে পদক (মরনোত্তর) পেয়েছেন। এজন্য আমি গর্ববোধ করি। কিন্তু কন্যা হিসেবে আমি বাবাকে মূল্যায়ণ করবো এভাবে যে, ভাল অভিনয় শিল্পীর পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন উদার প্রকৃতির সৎ মানুষ। তাঁর আদর্শ নিয়ে আমি এবং আমরা বেঁচে আছি।

গেল ২৯ মে ছিল নটশ্রেষ্ঠ অমলেন্দু বিশ্বাসের ৮৯তম জন্মদিন। বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এমনিভাবেই বললেন, যাত্রাভিশণ প্রোডাকশনের কর্ণধার ও অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, বাবাকে আরও কিছুদিন কাছে পেলে হয়তো পরিপূর্ণ মানুষ হতে পারতাম। কারণ মনুষ্যত্ব অর্জনের অনেক শিক্ষামূলক কথা তিনি বলতেন। এখন এই সমাজে যখন মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখি, তখন বাবাকে ভীষণভাবে মনে পড়ে। তিনি বলতেন সুন্দর মানুষ হও, সৎ মানুষ হও। শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে মহৎ মানুষ হওয়া যায়, সাধক হওয়া যায়।

বাবা একদিন বলেছিলে অভিনয়কে সাধনা হিসেবে নিয়েছিলেন বলেই বিনোদিনী শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের কৃপা লাভ করতে পেরেছেন। অরুণা বিশ্বাস নাটক ও সিনেমায় আসার আগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রী ছিলেন। তারও আগে, বয়স যখন ৪/৫, তখন বাবা অমলেন্দু বিশ্বাস ও মা জ্যোৎ¯œা বিশ্বাসের সঙ্গে যাত্রাদলে শিশু শিল্পীর অভিনয় করতেন।

যাত্রার পরিভাষায় শিশু শিল্পীকে বলা হয় ‘একানী’। অরুনা ৪৫ বছর আগে যাত্রার একাণী ছিলেন সিরাজগঞ্জের বাসন্তী অপেরায়। তার প্রথম অভিনীত যাত্রাপালাটি ছিল ‘যুগের দাবী’। চরিত্রের নাম ‘মাধব’। বাবা দিবসে বাবাকে প্রাণভরে ডাকলেন অরুণা বিশ্বাস।