বিশেষ সংবাদ:

জাতীয় নাট্যশালায় আবারও যাত্রা উৎসব

Logoআপডেট: মঙ্গলবার, ২০ মে, ২০১৪

শিহাব ফারুক
যাত্রাপালা বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান বিনোদন মাধ্যম। দেশীয় সংস্কৃতির শেকড়ের সাথে বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ এই উপাদানটি আজো সগৌরবে মহীয়ান।


যাত্রাপালা আমাদের সংস্কৃতির শেকড় বললে কোনভাবেই ভূল হবে না। কেননা এই পালাই ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের বিনোদনের একমাত্র খোরাক। আর পালাগুলো অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে আমাদের সংস্কৃতির আষ্ঠে-পিষ্ঠে।

 

আমাদের দেশে ইউরোপ আমেরিকার থিয়েটারের চেয়ে কম আকর্ষনীয় ছিলনা যাত্রা। আমরা কিন্তু যাত্রাপালাকে এখন আর সেই মমত্বে দেখিনা। পশ্চিমা সংস্কৃতির দাপটে বাংলা সংস্কৃতির এই ঐতিহ্যবহ অলংকার আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।


যাত্রাপালার কথা শুনলেই আজকাল মানুষের মনে এক ধরনের বিরক্তি দেখা যায়। কারণ যাত্রাপালা মানেই যেন  এক ধরণের অশ্লীল দৃশ্যের কথা মনে পড়ে। কেননা গত কয়েক দশকে বাংলা সংস্কৃতির এই সম্পদকে পুঁজি করে এ অঙ্গণের সুবিধাভোগীরা এর সাথে ব্যপকভাবে অশালীনতার সংমিশ্্রণ ঘটিয়েছে। যা অনবদ্য এ শিল্পকে নিন্দনীয় করে তুলেছে।

 

অবশ্য এরইমধ্যে সংস্কৃতির শিকড়তুল্য এ শিল্প-মাধ্যমের বিকাশে এগিয়ে এসেছে সরকার। অক্টোবরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় চার দিনের যাত্রা উৎসব।

 

সেই ধারাবাহিকতায় সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিষয়ক বিভাগের উদ্যোগে ‘যাত্রাশিল্প উন্নয়ন নীতিমালা- ২০১২’ বাস্তবায়ন ও যাত্রাদল নিবন্ধনের কাজও চলছে উৎসব-আমেজে। তারই অংশ হিসেবে ২৮ ও ৩০ মে একাডেমীর স্টুডিও থিয়েটার হলে আয়োজন করা হয়েছে ৫ম যাত্রা উৎসব- ২০১৪।


২৮ মে বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে একটানা ৫টি পালা পরিবেশন করে উৎসবে অংশ নেওয়া ৫যাত্রাদল। একই আবহে আগামীকাল ৩০মে সকাল সাড়ে ১০টায় মধুমালা নাট্য সংস্থা’র পরিবেশনায় একই হলে পরিবেশিত হবে বহুলআলোচিত যাত্রাপালা ‘আলোমতি প্রেম কুমার’। বেলা পোনে ১২টায় মঞ্জুশ্রী অপেরার পরিবেশনায় যাত্রাপালা ‘নিহত গোলাপ’ ও দুপুর আড়াইটায় তিতাস নাট্য সংস্থার পরিবেশনায় রয়েছে ‘জেল থেকে বলছি’।

 

এরপর বিকেল পোনে ৪টায় কার্তিক নাট্য সংস্থা’র পরিবেশনায় থাকবে ‘একটি পয়সা’ এবং বিকাল ৫টায় জ্যোতি অপেরা’র পরিবেশনায় প্রদর্শিত হবে যাত্রাপালা ‘সূর্যসাক্ষী’। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় স্বরূপ কথা যাত্রা দলের পরিবেশনায় দেখা যাবে ‘মমতাজ মহল’ এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নিউ নবরঞ্জন অপেরা ময়মনসিংহের পরিবেশনায় পরিবেশিত হবে যাত্রাপালা ‘মেঘে ঢাকা তারা’।

 

এ বিষয়ে যাত্রা শিল্পী উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বরেণ্য যাত্রাব্যক্তিত্ব মিলন কান্তি দে বলেন, অবশেষে সরকার যাত্রা শিল্পের বিকাশে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। একইসাথে যতো দ্রুত সম্ভব ‘যাত্রাশিল্প উন্নয়ন নীতিমালা’র অনুমোদন জরুরী। যা আমাদের প্রাণের এ শিল্পমাধ্যমকে অনেক গতিশীল করবে।