বিশেষ সংবাদ:

অভিনয়ের জন্য আবৃত্তিচর্চা খুবই জরুরী

Logoআপডেট: মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০১৫

যাত্রাঙ্গনের এক জীবন্ত কিংবদন্তি মিলনকান্তি দে। তিনি একজন সু-অভিনেতা, দক্ষ-নির্দেশক, সংগঠক, প্রাণচঞ্চল আবৃত্তিকার এবং জীবনঘনিষ্ট শিল্প-সমালোচক। জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রয়েছে স্বপ্রতীভ এই যাত্রানটের একক আবৃত্তিসন্ধ্যা। বিশেষ এ আয়োজন ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আজকের ‘হ্যালো শুনছেন?’ বিভাগে কথা বলেছেন তিনি। এম. ওাসেল মিঝি

 

আপনার এই আবৃত্তিসন্ধ্যার বিশেষত্ব কি?
আমার এ আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘অন্তর মম বিকশিত কর আন্তরতর হে’। এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, আমাদের মন-প্রাণের বিকাশ ও শুদ্ধতার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে পরম প্রার্থনা করতে হবে। কবিতা হচ্ছে কবির সৃষ্টিশীল বৈচিত্রতা ও শিল্পভাবনার অনবদ্য বর্হিপ্রকাশ। কবির অমর লেখনিকে আবৃত্তিকার তার বাকশৈলীতে কল্ললিত করে তোলে। সব চেয়ে বড় কথা হলো- কবিতা ও আবৃত্তি হচ্ছে সুনন্দরের প্রকাশ এবং অশুভ ও অপশক্তি মোকাবিলায় শাণিত কৃপাণ। তাছাড়া একজন যাত্রাশিল্পী হিসেবে আমি মনে করি অভিনয়ের জন্য আবৃত্তিচর্চা খুবই জরুরী।

 

একজন বরেণ্য যাত্রাশিল্পী হিসেবেই আপনি পরিচিত। আবৃত্তিচর্চার সূচনা কবে থেকে?
মূলত, ষাটের দশকে আবৃত্তির মধ্য দিয়েই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমার পথচলা শুরু। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তৎকালীন রেডিও পাকিস্তান চট্টগ্রামে আমি প্রথম কবিতা আবৃত্তি করি। সেসময় বাঙালির গণআন্দেলনে চট্টগ্রামে বহু সভা-সমাবেশে আবৃত্তি করেছি। পরে ঘটনাচক্রে আমি যাত্রাঙ্গনে চলে যাই। পরে ২০১০ সাল থেকে পূণরায় পূণরায় আবৃত্তিচর্চা শুরু করি।

 

এখনকি কোন আবৃত্তি সংগঠনের হয়ে কাজ করছেন?
না, তেমন কোন আবৃত্তি সংগঠনের সাথে আমি যুক্ত নই। তবে আমার যাত্রাদল দেশ অপেরায় নিয়মিত আবৃত্তিচর্চা করা হয়। ঢাকা বিশ্ব-বিদ্যালয় এবং চারুকলাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেছি। এছাড়া আমি নারায়নগঞ্জের মনম সাহিত্য সংগঠনের নিয়মিত আবৃত্তিশিল্পী।

 

আজকের আয়োজনে কি ধরণের চমক থাকছে?
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদ বধ মহাকাব্য’র প্রথম সর্গ(৫৩৪ লাইন), রবীন্দ্র নাথের ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’, কাজী নজরুলের ‘বিদ্রোহী’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘আমার পরিচয়’ সহ বিশিষ্ট কবিদের ১৫টি দীর্ঘকবিতা মুখস্ত আবৃত্তি করবো।

 

যাত্রাশিল্পের একজন সংগঠক হিসেবে এই শিল্পের বর্তমান অবস্থাকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
অনেক সমস্যা-সংকটের মধ্যদিয়ে যাত্রাশিল্প এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে যাত্রার নীতিমালা তৈরি হয়েছে। এতে করে নীয়মিত সুষ্ঠু যাত্রাচর্চার একটা সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে যাত্রাশিল্পের সার্বিক উন্নয়নে সরকারী-বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতা এখন সবচেয়ে বেশী জরুরী।