বিশেষ সংবাদ:

অশ্লীলতামুক্ত যাত্রাশিল্পের দীপ্ত অঙ্গিকারে নতুন কমিটি : সভাপতি মিলন কান্তি সম্পাদক জসিম

Logoআপডেট: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০১৫

 

এবি প্রতিবেদক

 

অশ্লীলতামুক্ত যাত্রাশিল্পের দীপ্ত অঙ্গিকার নিয়ে আগমী দিনের পথচলায় বিশিষ্ট যাত্রানট মিলন কান্তি দে’কে সভাপতি ও সোহেল হায়দার জসিম’কে সাধারণ সম্পাদক করে যাত্রাশিল্পের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে।

 

বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্যবহ এ শিল্পের চলমান সমস্যা-সংকট ও দুর্নাম নিরসনে এবং এই শিল্পকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পার্যায়ে উত্তরণের লক্ষ্যে ১১ জুলাই শনিবার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর স্টুডিও থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত জাতীয় সম্মেলনে এই কমিটি গঠিত হয়।

 

‘যাত্রাশিল্পের জন্যে চাই এক নির্মল সকাল’ শ্লোগানে সারাদেশ থেকে আসা যাত্রামালিক-শিল্পী ও সংগঠকদের অংশগ্রহনে জাতীয় এ সম্মেলনে দীর্ঘদিনের ত্যাগী, মেধাবী ও সর্বজন স্বীকৃতদের নিয়ে নতুন এ নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়। কমিটি গঠনের পূর্বে সম্মেলন আনুষ্ঠানিকতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন সেক্রেটারী জেনারেল আকতারুজ্জামান।

 

বিশিষ্ট যাত্রাব্যক্তিত্ব সুলতান সেলিমের সভাপতিত্বে এতে প্রধান বক্তা ছিলেন মিলন কান্তি দে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার সর্বস্তরের যাত্রাদলের মালিক, শিল্পী, সংগঠক ও শুভাকাঙ্খিদের উপস্থিতে জাতীয় এ সম্মেলনে যাত্রাশিল্প থেকে অশ্লীলতা দূরিকরণের মধ্য দিয়ে এর গৌরবজ্জ্বল ঐতিহ্য ফিরিয়ে আগামি দিনে সুষ্ঠু যাত্রাশিল্পচর্চার প্রয়াসে নেতৃবৃন্দরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম কুদ্দুছ বলেন, সংস্কৃতি একটি জাতীর পরিচয় বহন করে। সে অর্থে যাত্রাশিল্প বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্যগাঁথা অন্যতম প্রধান উপাদান। সুতরাং সংস্কৃতির শেকড়ের এই শিল্পকে বিলিন হতে দেওয়া যাবেনা। আমাদের দেশজ ঐতিহ্যের তাৎপর্যমন্ডিত এ শিল্পকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সাথে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, যাত্রার মর্যাদা পূণপ্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসলে সরকারের আনুকল্য পাবেন বলে আমার বিশ্বাস। সংগ্রাম ছাড়া কোন দাবী- আদায় হয়না। যাত্রাশিল্পকে অতীতের মর্যাদায় ফিরাতে আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন। সরকার অবশ্যই মূল্যায়ন করবে। শিল্প-সংস্কৃতি বাঁচাতে সরকারকে অবশ্যই অন্যসব খ্যাতের মতো বিনিয়োগ তথা পৃষ্টপোষকতা করতে হবে। এটি সরকারের দায়িত্ব।

 

কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যরা হলেন- কার্যকরী সভাপতি সুলতান সেলিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্শারফ হোসেন, সহ-সভাপতি রিক্তা সুলতানা, কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক গাজী বেলায়েত, যুগ্ম সম্পাদক স্বপন পান্ডে ও এম এ মজিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ মান্নান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- এম আলীম এবং অর্থ সম্পাদক সুদর্শন চক্রবর্তী।

 

যাত্রাশিল্পের এই নবযাত্রা প্রসঙ্গে নবনির্বাচিত সভাপতি বিশিষ্ট যাত্রানট মিলন কান্তি দে বলেন, বাঙালির হাজার বছরের গৌরবোজ্জ্বল সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্পকে পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ্যধারায় প্রবাহিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আগামী দিনে সেই অনবদ্য প্রয়াসে যাত্রাশিল্প থেকে অশ্লীলতা রোধে এবং পরিচ্ছন্ন যাত্রাশিল্পচর্চার নিমিত্তে আমাদের দুর্বার আন্দোলনে সরকারসহ সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহায়তা কামনা করছি। ৫১ সদস্যের সদ্যগঠিত কমিটি ছাড়াও যাত্রাশিল্পের উন্নয়নে ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি স্থায়ী কমিটি গঠিত হয়।