বিশেষ সংবাদ:

যাত্রাশিল্পের সংকট নিরসনে শিল্পকলার মহাপরিচালককে স্বারকলীপি

Logoআপডেট: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০১৫

এবি প্রতিবেদক

আবহমান বাংলাসংস্কৃতির ঐতিহ্যবহ যাত্রাশিল্পের চলমান সমস্যা-সংকট নিরসনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকীকে স্বারকলীপি দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদ।

 

২২ জুন বুধবার সন্ধ্যায় তার কার্যালয়ে পরিষদের নবনির্বাচিত কমিটির ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে ৮ দফা দাবিতে এই স্বারকলীপি প্রদান করে।

 

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জাতীয় যাত্রামঞ্চ প্রতিষ্ঠা, প্রতিটি বিভাগী শহরে স্থায়ী যাত্রামঞ্চ নির্মাণ, সিনেমা হলের ন্যায় বিভিন্নস্থানে যাত্রামঞ্চ নির্মাণের জন্য ঋণপ্রদান বা আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে বেসরকারী উদ্যোগকে উৎসাহিত করা, যাত্রারনামে অশ্লীলতা প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ নৈশ আদালত গঠন, শিল্পকলার উদ্যোগে প্রতিবছর জাতীয় যাত্রাউৎসবের আয়োজন, শিল্পকলা একাডেমীতে পৃথক যাত্রাবিভাগ চালু, দুস্থ যাত্রাশিল্পীদের কোটাভিত্তিক পৃথকভাতা/অনুদান প্রদানের ব্যবস্থা, নিবন্ধিত না হওয়া দলগুলোকে চলতি বছরের মধ্যে নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং অশ্লীলতার সঙ্গেযুক্ত দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল করা।

 

এছাড়াও যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের নিজস্ব উদ্যোগে গৃহীত কর্মপরিকল্পনা মোতাবেক যাত্রাশিল্পের বিলুপ্তপ্রায় উপকরণ সংরক্ষণ এবং মহড়া ও দুস্থ যাত্রাশিল্পীদের পুণর্বাসনকল্পে ঢাকা বা নগরীর পাশ্ববর্তী এলাকায় একটি যাত্রাভবন নির্মাণ, প্রতিবছর ৩ মাস মেয়াদী যাত্রাকর্মশালা, প্রতিটি যাত্রাদলে দেশীয় যাত্রাপালা মঞ্চায়নের ব্যবস্থা এবং দুস্থ যাত্রাশিল্পীদের জন্য কল্যাণ তহবিল গঠনের বিষয়ে ডিজির অবহিত করা হয়। এসময় ৫১ সদস্যের সদ্যগঠিত কমিটি ছাড়াও যাত্রাশিল্পের উন্নয়নে ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট স্থায়ী কমিটির তালিকা প্রদান করা হয়।

 

একইসাথে যাত্রার নামে অশ্লীলতা প্রতিরোধে কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে- প্রতিটি জেলা ও পুলিশ প্রশাসনে স্বারকলীপি প্রদান, জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা-সাংবাদিক ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনীময়, জেলায় জেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ, পত্র-পত্রিকার সঙ্গে যৌথ আয়োজনে সেমিনার ও মতবিনীময় এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে লিপলেট বিতরণ। শিল্পকলার মহাপরিচালক যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের ব্যপক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সংস্কৃতির শেকড়ের ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে উত্থাপিত দাবিগুলো খুবই ন্যায়সঙ্গত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে দাবিগুলো বাস্তবায়নে আশ্বস্থ করা হয়।

 

তিনি বলেন, আত্মসামাজিক প্রেক্ষাপটে আনিত দাবী তথা কর্মপরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন দূরূহ হলেও ধাপে-ধাপে এর সফলতা অসবে বলে আমার বিশ্বাস। একইসাথে শীত মৌসুমে দেশীয়পালার সমণ¦য়ে পরিষদেও উদ্যোগে ১৫দিনব্যপী একটি যাত্রাউৎসব আয়োজনে সরকারি সহায়তারও আশ্বাস দেন তিনি। পরিশেষে তিনি বলেন, যাত্রাশিল্পের উন্নয়ন আর শিল্পকলা একাডেমীর উন্নয়ন পৃথক কোন বিষয় নয়। যাত্রাশিল্পের অস্তিত্বরক্ষা ও অগ্রগতিতে শিল্পকলা একাডেমী যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের নবগঠিত কমিটির নিরন্তন সংগ্রামের প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সহায়তা প্রদান করবে।

 

উল্লেখ্য, সৌজন্য সাক্ষাতে প্রতিনিধি দলে ছিলেন- যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি যাত্রানট মিলন কান্তি দে, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার জসিম, যুগ্ম সম্পাদক এম এ মজিদ, কোষাদক্ষ সুদর্শন চক্রবর্তী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক এম আলীম, দপ্তর সম্পাদক মোজাম্মেল হক এবং নির্বাহী সদস্য আলতাফ হোসেন।